কর্মসাথী প্রকল্প কি? আবেদন পদ্ধতি | Karma Sathi Prakalpa Application in Bengali

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বাংলার বেকার যুবক যুবতীদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সামাজিক উন্নয়নমূলক একটি প্রকল্প হলো কর্মসাথী প্রকল্প (Karma Sathi Prakalpa)। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রাম এবং শহরের অনেক কাজের সুযোগ সুবিধা পাবে এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা কর্মসাথী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চলেছি।

কর্মসাথী প্রকল্প কি? (What is Karma Sathi Prakalpa in Bengali)

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের প্রতিশ্রুতিশীল বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য এবং তাদের উৎপাদন মূলক নতুন চিন্তা ধারাকে কাজে লাগিয়ে বছরে এক লক্ষ যুবককে দু লক্ষ টাকা রাষ্ট্রীয় সমবায় ব্যাংক থেকে কম সুদে লোন দেবে। তারা এই টাকা ছোট ব্যবসাকে কাজে লাগিয়ে নিজে নিজে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে এবং স্থায়ীভাবে কাজ খুঁজে পাবে। এই উদ্যোগের জন্য সরকার ২০২০ সালে কর্মসাথী প্রকল্পের সূচনা করেন।

Karma Sathi Prakalpa Application in Bengali

কর্মসাথী প্রকল্প এক নজরে

প্রকল্পের নামকর্মসাথী প্রকল্প
সাল২০২০ সাল, ৯ই সেপ্টেম্বর
উদ্যোক্তামমতা ব্যানার্জি
সুবিধা২ লক্ষ টাকা লোন
দপ্তরঅর্থ মন্ত্রক
সুবিধভোগীরাজ্যের বেকার যুব সমাজ

কর্মসাথী প্রকল্প উদ্দেশ্য

  • সমাজে বেকারত্বের পরিমাণ কমানো।
  • যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
  • ছোট ব্যবসার প্রতি চাহিদা বাড়ানো।
  • পরবর্তী প্রজন্মকে কাজের নতুন পথ দেখানো।
  • যুবকদের নতুন চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

কর্মসাথী প্রকল্পের সুবিধা

  1. গ্রাম বাংলা ও শহরের বেকার যুবক যুবতীদের কাজের পথ দেখানো।
  2. গ্রাম এবং শহরের ছোট ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে কম সুদে সরকার লোন দেবে।
  3. প্রকল্পের প্রধান সুবিধা হচ্ছে যুবকদের কম সুদে লোন দিয়ে তাদের কর্মমুখী করে তোলা।
  4. সরকার যে লোন দেবে সেটি তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
  5. এই প্রকল্পের অধীনে আবেদনকারীকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া হবে।
  6. সরকার দু লক্ষ টাকার মধ্যে থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিবে।
  7. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদের টাকা দিলে সরকার অর্ধেক সুদের টাকা ভর্তুকি দিবে।

কর্মসাথী প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে কোন কোন ব্যাবসা করা যাবে?

বাংলার বেকার যুবক যুবতীরা কর্মসাথী প্রকল্প থেকে যে লোন পাবে তা দিয়ে তারা মুদিখানা, ফাস্টফুড, স্টেশনারি, চানাচুর, কাগজের প্যাকেট, বই বাধা ইত্যাদি বাড়িতে বসে ফ্যাক্টরি খুলতে পারবে, এছাড়া উৎপাদন, পরিষেবা, বানিজ্য মূলক কাজের দিশা খুঁজে পাবে।

কর্মসাথী প্রকল্পের জন্য দরকারি যোগ্যতা

  1. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  2. আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  3. আবেদনকারীকে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পাস লাগবে।
  4. আবেদনকারী যদি যুবশ্রী প্রকল্পের মাসিক ভাতা পেতে থাকেন তবে সে এই প্রকল্পের সুবিধা ভাবে।
  5. একটি পরিবার থেকে একজন মাত্র এই সুবিধা পাবে।

কর্মসাথী প্রকল্পে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • প্রজেক্ট রিপোর্ট
  • কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
  • রঙিন ফটো
  • জন্ম সার্টিফিকেট, আধার কার্ড,  ভোটার কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড
  • বাসিন্দা সার্টিফিকেট
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট

কর্মসাথী প্রকল্পের আবেদন পত্র

বাংলার উৎসাহিত যুবকরা অনলাইন কিংবা অফলাইন থেকে ফর্ম ফিলাপ করে, তারপর উপযুক্ত কাগজ গুলো নিয়ে স্থানীয় ভিডিও অফিস পৌরসভা অফিস গিয়ে কর্মসূচি বিভাগে জমা করবে। জমা করার পর আরও কিছু জানার থাকলে আপনি কর্মচারী বিভাগে জানতে পারবেন।এটি প্রত্যেকটি ব্লকে নির্দিষ্ট অফিস রয়েছে।

তারপর তারা আপনার ফর্মটি হেড অফিসে পাঠাবে এবং সেখান থেকে আপনার মোবাইলে একটি SMS আসবে। যদি আপনার সমস্ত নথিপত্র ঠিক থাকে এবং আপনার কাগপত্রগুলো ঠিক হয়ে থাকলে আপনাকে সমবায় ব্যাংক অর্থাৎ কো-অপারেটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং আপনার প্রজেক্ট এর ৫০% টাকা প্রথম ইনস্টলমেন্টে ঢুকবে, দ্বিতীয় ইনস্টলমেন্টের টাকা কাজ কমপ্লিট হওয়ার পর। বাকি টাকা আপনার একাউন্টে ঢুকে যাবে এইভাবে আপনি কর্মসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

কর্মসাথী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: Click Here

👉 সরকারি প্রকল্প, সরকারি সুবিধার নতুন নতুন তথ্য মিস না করতে চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে Join হয়ে থাকুন