খাদ্য সাথী প্রকল্প কি? সুযোগ-সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে এখনও এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে তিন বেলা পেট ভরে অন্ন জোটে না। দিনের পর দিন দ্রব্যের মুল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র পরিবারগুলির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাদের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১৬ সালে ২৭ জানুয়ারি খাদ্যসাথী (Khadya Sathi) নামের এই নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

আর্থিক দিক থেকে অনগ্রসর পরিবারগুলিকে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন  প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু খাদ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু  অনগ্রসর পরিবারই নয়, লাভবান হবেন বাংলার সমস্ত মানুষ। আসুন জেনে নিই একনজরে খাদ্যসাথী প্রকল্প সম্পর্কে সমস্ত তথ্য।

খাদ্যসাথী প্রকল্প (Khadya Sathi Prakalpa Details in Bengali)

khadya sathi Prakalpa in Bengali

খাদ্য সাথী প্রকল্প কি?

গত ২০১৬ সালের ২৭ শে জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদ্যোগে এই খাদ্যসাথী প্রকল্প (Khadya Sathi Scheme) শুরু হয়। এই প্রকল্পে পশ্চিমবাংলার প্রায় ৯০% অর্থাৎ কমবেশি ৭ কোটিরও বেশি মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। খাদ্যসাথী এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ২ টাকা কেজি দরে চাল,গম কিনতে পারবেন যা বাজারে চড়া মূল্যের তুলনায় অনেক কম।

এই প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকদের একটি বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। আর এই খাদ্য সাথী কার্ড থাকলেই তার মাধ্যমে রেশন দোকান থেকে কম মূল্যে খাদ্যশস্য কেনার সুযোগ পাবে মানুষ।

প্রকল্পের নামখাদ্য সাথী প্রকল্প
কে সূচনা করেন?মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কবে সূচনা হয়?২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র এবং আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবার
কিভাবে সুবিধা পাবেন?অত্যন্ত কম মূল্যে অথবা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য
অফিশিয়াল ওয়েবসাইটwww.wbpds.gov.in

খাদ্যসাথী প্রকল্পের উদ্দেশ্য

রাজ্যের অনগ্রসর মানুষদের পাশে থেকে খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যেই এই খাদ্য সাথী প্রকল্প সূচনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সাধারণ জনগণের মধ্যে কম ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য এই খাদ্য সাথী প্রকল্প চালু করেছে।

এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ৭.৪৯ কোটি মানুষকে ২ টাকা কেজি হারে চাল ও গম সরবরাহ করেছে। রাজ্যের দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের কাছে কম মূল্যে এমনকি বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

কারা এই সুবিধা পাবেন

  • আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • সমস্ত রেশন কার্ড ধারক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
  • শুধুমাত্র দরিদ্র পরিবারগুলি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য।
  • জঙ্গলমহল, পুরুলিয়া জেলায় চা বাগানে কর্মচারী, সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ, সিঙ্গুরে যারা জমি হারিয়েছে, দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও কলকাতার গৃহহীন মানুষ সহ আরও অন্যান্য দারিদ্র শ্রেণীর মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না

  • আবেদনকারী স্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
  • এছাড়াও রেশন কার্ড না থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
  • যদি কোনো পরিবারের কোনো সদস্য চাকরি করেন তাহলে তিনি এই খাদ্য সাথী কার্ড এর আওতায় সুযোগ পাবেন না।

খাদ্যসাথী প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা

  • এই প্রকল্পের আওতায় থাকা সমস্ত মানুষ 2 টাকা কেজি দরে চাল ও গম পাবেন।
  • প্রত্যেক পরিবার মাথাপিছু 35 কেজি চাল গম দেয়া হবে।
  • ৫০ লক্ষ মানুষ বাজার থেকে অর্ধেক দামে খাদ্যশস্য পাবেন।
  • এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় সাত কোটির বেশি মানুষ দু টাকা কিলো দরে খাদ্যশস্য পাবেন।

খাদ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে সাধারণ মানুষ রেশন কার্ডের নানারকম ধরন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন। রেশন কার্ড গুলিকে মূলত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন – অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা শ্রেণীভূক্ত কার্ড (AAY), এস পি এইচ এইচ শ্রেণীভূক্ত কার্ড (SPHH), পি এইচ এইচ শ্রেণীভুক্ত কার্ড (PHH), রাজ্য সুরক্ষা যোজনা ১ ভুক্ত কার্ড, রাজ্য সুরক্ষা যোজনা ২ ভুক্ত কার্ড।

 সারণিরেশন কার্ডের ধরনচালের পরিমানচালের মূল্যগমের পরিমানগমের মূল্য
AAY১৫ কেজি২ টাকা২০  কেজি২ টাকা
SPHH২ কেজি২ টাকা৩  কেজি২ টাকা
PHH২ কেজি২ টাকা৩ কেজি২ টাকা
রাজ্য সুরক্ষা যোজনা ১ ভুক্ত কার্ড২ কেজি২ টাকা৩  কেজি২ টাকা
রাজ্য সুরক্ষা যোজনা ২ ভুক্ত কার্ড১ কেজি১৩ টাকা১  কেজি৯ টাকা 

খাদ্যসাথী প্রকল্পের আবেদনের যোগ্যতা 

  • খাদ্যসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আবেদনকারী কাছে অবশ্যই রেশন কার্ড থাকতে হবে।
  • শুধুমাত্র দরিদ্র অনগ্রসর পরিবাররা প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • পরিবারের বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে থাকতে হবে।

খাদ্যসাথী প্রকল্পের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  • আবেদনকারীর আধার কার্ড।
  • পুরোনো রেশন কার্ড।
  • স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র।
  • গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এর সার্টিফিকেট।
  • বাৎসরিক ইনকাম সার্টিফিকেট।

খাদ্যসাথী প্রকল্পের জন্য কিভাবে আবেদন করবেন

  • আপনার কাছে যে পুরনো রেশন কার্ড আছে সেটিকে ডিজিটাল রেশন কার্ড করতে হবে।
  • নতুন ভাবে আবেদন করলেও আপনাকে ডিজিটাল রেশন কার্ড বানাতে হবে।
  • ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন আবেদন করতে পারেন।
  • অনলাইনে আবেদন করার জন্য এই সাইটে আবেদন করতে হবে।
  • অফলাইনে আবেদন করার জন্য X-R & X-U ফর্ম ফিলাপ করে ফুড সাপ্লাই অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়াও আপনি দুয়ারে সরকার ক্যাম্প এর মাধ্যমেও আবেদন করতে পারেন।

খাদ্যসাথী আমার রেশন মোবাইল অ্যাপ

খাদ্যসাথী আমার রেশন হল একটি মোবাইল অ্যাপ যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর থেকে ২০১১ সালে  চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপ এর মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনের ফর্ম স্ট্যাটাস চেক করা এবং FPS অনুসন্ধান করা।

আমার রেশন অ্যাপে কিভাবে রেজিস্টার করবেন?

খাদ্যসাথী আমার রেশন অ্যাপে রেজিস্টার করার জন্য নিচে দেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপ অবলম্বন করতে হবে-

  • আপনার মোবাইল ফোনে গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) থেকে খাদ্যসাথী আমার রেশন অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।
  • ডাউনলোড করা হয়ে গেলে সেই অ্যাপটি খুলুন এবং মেনু অপশন এ ক্লিক করুন।
  • মেনু অপশন এ ক্লিক করলে রেশন বেনেফিশিয়ারি অপশনটি দেখতে পাবেন এবং সেখানে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার রেশন কার্ডের সাথে লিংক করা রেজিস্টার মোবাইল নাম্বারটি সেখানে এন্টার করুন।
  • এরপর সেন্ড ওটিপি অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নাম্বারে একটি ওটিপি আসবে সেটি এন্টার করবেন।
  • এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
  • খাদ্যসাথী আমার অ্যাপ রেজিস্টার হয়ে যাবে।

Official Website : Click Here