কৃষক বন্ধু প্রকল্প- দুই কিস্তিতে ১০ হাজার টাকার সুবিধা | Krishak Bandhu Prakalpa- Benefits, Application Process

বাংলার  মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কৃষক বন্ধু প্রকল্পটি 2019 সালে ৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ কৃষি বিভাগ দ্বারা উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা খারিফ শস্য ও রবি শস্য আগে আর্থিক সাহায্য পাবে এবং কোন কৃষক মারা গেলে দু লক্ষ টাকা পর্যন্ত জীবন বীমা পাবে। আরো বিস্তারত নিচে আলোচনা করা হলো-

Krishak Bandhu Prakalpa- Benefits

কৃষক বন্ধু প্রকল্প কি?

কৃষক বন্ধু প্রকল্প হল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার কৃষকদের পাশে থাকার জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পটি রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক সাহায্য এবং তাদের জীবন বীমার নিয়ে এসে তাদের সাহায্য প্রদান করবে।

এছাড়া কৃষকরা চাষের জন্য যে ঋণ নিত সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং বছরে রবি ও খারিফ শস্যের আগে দুই কিস্তিতে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবে। সরকারের এই সুবিধা পাওয়ার ফলে চাষের প্রতি কৃষকের চাহিদা বেড়েছে এবং কৃষির ফলন ভালো হয়েছে বলে সরকার মনে করছে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্প একনজরে

প্রকল্পের নামকৃষক বন্ধু প্রকল্প
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
সাল২০১৯ সাল ৯ জানুয়ারি
দপ্তরকৃষি বিভাগ
উদ্বোধনমমতা ব্যানার্জি
সুবিধাবছরে ১০ হাজার টাকা
সুবিধাভোগীকৃষক জমির মালিক ও ভাগ চাষী
E-mail[email protected]
হেল্পলাইন নাম্বার8336957370, 8597974989, 6291720406

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উদ্দেশ্য

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো কৃষককে চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো। তাছাড়া ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষক চাষ করত, কৃষককে ঋণ মুক্ত করতে সহায়তা করেছে এবং লাভ যুক্ত চাষের প্রতি কৃষক নজর দিয়েছে।

কৃষক কে জীবন বীমা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কোন কৃষক মারা গেলে সরকার দু লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবে। কৃষির ফলন বৃদ্ধি হয়েছে, চাষ যোগ্য জমি বেড়েছে এবং কৃষক কে সরকারী আওতায় এনেছে এই উদ্দেশ্যে কৃষক বন্ধু প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চালু করেছেন।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা

  1. কৃষকের জমির পরিমাণ এক একর বা তার কম হলে তারা বছরে দুই কিস্তিতে ৫ হাজার টাকা করে পেত এবং ভাগ চাষীরা তারা দুই হাজার টাকা করে পেত তারপর রাজ্য সরকার সেই টাকা দ্বিগুণ করে দিয়েছেন, ফলে জমির মালিকানা তারা বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ভাগ চাষিরা ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবে।
  2. এই আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ফলে চাষিদের চাষের প্রতি মনোযোগ বাড়বে এবং কৃষিতে ফলন বৃদ্ধি পাবে।
  3. কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কৃষকরা বছরে ২ লক্ষ টাকা জীবন বীমা পাবে।
  4. চাষের প্রতি জনগনের চাহিদা বেড়েছে।
  5. সরকার রবি শস্য এবং খারিফ শস্য আগে যে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে কৃষক সেই টাকা চাষাবাদে খরচ করবে।
  6. এছাড়া কৃষকরা কৃষিকাজের জন্য লোন করে চাষ আবাদ করতো, সরকারের এই সুবিধা পেয়ে কৃষক সুখী হয়েছে।
  7. ছোট মাঝারি কৃষকদের এখন থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করতে হবে না, এই আর্থিক সাহায্য পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্প বীমা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় বাংলার কোন কৃষক হঠাৎ করে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে মৃত্যু হলে কিংবা কোন কৃষকের সাধারণভাবে মৃত্যু হলে রাজ্য সরকার ২ লক্ষ(দুই) টাকা জীবন বীমা দেবেন কৃষক বন্ধু প্রকল্প থেকে। এই টাকা মৃত্যুর ১৫ দিনের মধ্যে কৃষকের বাড়ির কোন সদস্যের একাউন্টে ঢুকবে। সঙ্গে যেসব নথি লাগবে তা হলো –

  • মৃত ব্যক্তির নামে জমি রেকর্ড বা পর্চা।
  • কৃষকের মৃত্যুর সার্টিফিকেট।
  • মৃত কৃষকের মৃত্যুর পরের মুহূর্তের পাসপোর্ট ছবি।
  • আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড এর জেরক্স।
  • বিডিও বা পৌরসভা বা মহকুমা শাসক এর দেওয়া বাসিন্দা সার্টিফিকেট।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বই

এরপর উপরি উক্ত সমস্ত নথিপত্র গুলো নিয়ে মৃত ব্যক্তির অধীনস্থ বিডিও অফিস বা পৌরসভা অফিসে গিয়ে কৃষি বিভাগ দপ্তরে জমা দিতে হবে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যোগ্যতা

  • কৃষককে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • কৃষকের নামে জমি রেকর্ড, পাট্টা এবং ভাগ চাষী হলে জমির বর্গা থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী কৃষকের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর এর মধ্যে হতে হবে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  1. জমির দলিল, রেকর্ড, পরচা
  2. আধার কার্ড
  3. ভোটার কার্ড
  4. পাসপোর্ট ছবি
  5. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (সঙ্গে মোবাইল নাম্বার অ্যাড থাকতে হবে)

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা কারা কারা পাবে

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জমির মালিকগণ এই সুবিধা পাবেন। মালিকের নামে দলিল, পর্চা, রেকর্ড থাকতে হবে। এছাড়া যাদের নামে জমি নেই তাদের ক্ষেত্রে জমির দলিল কিংবা অন্য কিছু কাগজপত্র দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে তার নাম লিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এর সঙ্গে জমা করলে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাবে। এছাড়া ভাগচাষীরা তাদের জমির মালিকের থেকে সরকারি সুবিধার অর্ধেক টাকা পাবেন যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন করার ফর্ম আপনি কম্পিউটারের দোকান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। সেইসাথে আমরা নিচে ফর্ম ডাউনলোড করার লিংক দিয়ে রেখেছি।

কৃষক বন্ধু ফর্ম নিয়ে অফলাইনে ফিলাপ করবেন তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র দিয়ে আপনি আপনার এলাকার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে জমা করতে পারেন। এছাড়া আপনার অধীনস্থ বিডিও অফিস বা শহর অঞ্চলের পৌরসভা অফিসের কৃষি বিভাগ দপ্তরে উপযুক্ত কাগজগুলো জমা করবেন এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ফর্ম ডাউনলোড

Krishak Bandhu Prakalpa Application Form Download Now

সবশেষে,

আশা করছি আজকের এই কৃষক বন্ধু প্রকল্প (Krishak Bandhu Prakalpa) নিয়ে লেখা আর্টিকেল থেকে আপনি উক্ত প্রকল্পের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন। আমরা এই ওয়েবসাইটে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, স্টুডেন্ট স্কলারশিপ সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকি।

আপনি যদি সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য পেতে চান বা আপডেট থাকতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে ভুলে গেলে চলবে না।