স্কুল শিক্ষকদের জন্য নতুন ১৩ দফা জরুরী নির্দেশ, ২০২৩ সাল থেকে চালু হবে এই নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে চলেছে। ২০১১ সালে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা আসার পর শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব বেড়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার তেমন কোন ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা জেনারেশন পড়াশোনার প্রতি মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে। নতুন জেনারেশনকে আধুনিক শিক্ষা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন এনেছে এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন নিয়েছেন তা হলো আমাদের রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে বার্ষিক সেরীমনি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই সেরীমনি অনুষ্ঠান রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে অনুষ্ঠিত হতো কিন্তু এখন তা স্কুলে হতে চলেছে।

এছাড়া রাজ্যের সমস্ত শিক্ষার্থীদের এক ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাদের স্বাগত জানাবে। রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে একটি নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হবে শিক্ষার্থীদের। স্কুল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে জানানো আছে কালী পূজার ছুটির পরে স্কুল খুললে প্রাথমিক শিক্ষা বর্ষ থেকে এই নির্দেশ করে পাঠানো হয়েছে।

গ্রাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠান বিদেশী স্কুলগুলিতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি চালু আছে। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের এই অনুষ্ঠান পড়াশোনা প্রতি উৎসাহ বাড়াবে এবং স্কুলে আসার চাহিদা বাড়বে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ১৩ দফা জরুরী নির্দেশ গুলি নিম্নে পরপর আলোচনা করা হলো।

শিক্ষকদের জন্য নতুন ১৩ দফা জরুরী নির্দেশ

  1. প্রতিবছর জানুয়ারির দুই তারিখে গ্রাজুয়েশন সেরেমনি পালন করতে হবে।
  2. ক্লাস টিচাররা তার শিক্ষার্থীদের চকলেট, মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানাবেন।
  3. সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে করে নিয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
  4. জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা উত্তীর্ণ হবে এবং প্রধান শিক্ষক তাদের সম্মান জানাবেন।
  5. নতুন ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস টিচারদের পরিচয় জানাবে।
  6. প্রত্যেক শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ফটোশুট হবে এবং স্মৃতি হিসেবে রাখতে হবে।
  7. স্কুলের কোনো একটি কর্নারে ছাত্র-ছাত্রী দের জন্ম তারিখ সহ ফটো লাগাতে হবে।
  8. ছাত্র-ছাত্রীরা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যেসব সুবিধা পেয়েছে যেমন বই, মিড ডে মিল, স্বাস্থ্য ইত্যাদি এবং স্কুলের ইতিহাস সমন্ধে প্রধান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের জানাবে।
  9. ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের বসার সুব্যবস্থা করতে হবে এবং যাতে পঠন পাঠন ব্যবস্থা ভালো হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।
  10. প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি দিতে হবে।
  11. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি গ্রুপ লার্নিং-এ ছাত্রছাত্রীরা যুক্ত হবে এবং সেখানে পড়াশোনা সম্বন্ধে আলোচনা করা হবে।
  12. সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মিড ডে মিল ইত্যাদিতে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা করবে।
  13. সারা বছরের এই অনুষ্ঠান একটি বুকলেট আকারে বছর শেষে প্রকাশিত হবে।

রাজ্য সরকারের এই ১৩ দফা নীতি বা নির্দেশ পূজোর পর শুরু হবে। ২০২৩ সালে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে এই নিয়ম চালু হবে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়ার প্রতি উৎসাহ বাড়বে। আধুনিক যুগের এই নীতিতে বর্তমান সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসবে বলে আশা করা যায়।

Join Telegram Channel: Click Here

More Update: Click Here