পথ সাথী প্রকল্প কি? সুবিধা ও বিভিন্ন নিয়মাবলী | Path Sathi Prakalpa in Bengali

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পথ সাথী প্রকল্প (Path Sathi Prakalpa)। এই পথ সাথী প্রকল্প আসলে আনন্দধারা প্রকল্পের অংশবিশেষ, যা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেছেন। বাংলার পথচারী মানুষের কথা ভেবে এই প্রকল্প চালু করেন। বিশেষ করে কর্মরত মহিলারা রাস্তার পাশে শৌচাগার না থাকার ফলে সমস্যায় পড়ে, সেই সমস্যার সধাধানের জন্য এই প্রকল্প বাস্তায়িত হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে পথ সাথী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

Path Sathi Prakalpa in Bengali

পথ সাথী প্রকল্প কি? (What is Path Sathi Prakalpa in Bengali)

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে পথসাথী প্রকল্প একটি স্বপ্নের প্রকল্প। পথ সাথী প্রকল্প হল রাজ্য ও জাতীয় সড়কের ৫০ কিলোমিটার অন্তর হোটেল তৈরি করা। যেখানে বিদেশি এবং ভ্রমণ করতে আসা এক জেলা থেকে অন্য জেলার এবং এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের ছেলে-মেয়ে বৃদ্ধ সকলে স্বল্প মূল্য হোটেল ভাড়া পাবেন। এছাড়া একই ছাদের নিচে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, পরিবেশ এবং রুচিসম্মত খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। সেইসাথে অন্যান্য সমস্ত ধরনের সুবিধা কম মূল্যে পাওয়া যাবে।

পথ সাথী প্রকল্পের উদ্দশ্য

  • পুরুষ, মহিলাদের ও পথচারীদের রাত্রিকালীন সুরক্ষা দেওয়া।
  • স্বল্প খরচে সব কিছু হাতের কাছে পাবে।
  • একই ছাদের নিচে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং রুচিসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা।
  • রাজ্যের বাইরে থেকে কোনো পথচারী ভ্রমণে আসলে তাদেরকেও একই সুবিধা দেওয়া।

পথ সাথী প্রকল্পের সুবিধা

  1. পথসাথী প্রকল্প রাজ্য জাতীয় সড়ক বা ন্যাশনাল হাইওয়ে সড়কের 50 কিমি অন্তর একটি প্রতিষ্ঠানের ঘর বানানো হয়েছে।
  2. পথসাথী প্রকল্পের আওতায় বানানো ঘর গুলো বা হোটেল গুলোতে খাবার, শৌচাগার এবং রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে।
  3. পথচারীদের বা অচেনা যাত্রীদের রাত্রিকালীন থাকার ব্যবস্থা।
  4. পথসাথী প্রকল্পের হোটেল গুলোর খরচ তুলনামূলক অন্যান্য হোটেল খরচের থেকেও কম।
  5. পথসাথী প্রকল্পের আওতাও হোটেল গুলোতে কর্মচারী রাখা হয়েছে। যাত্রীদের ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য।
  6. এই প্রকল্পের কারনে কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং অনেক বেকার যুবকরা স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে।
  7. এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২৩ টি জেলায় ৬৫টি পথসাথী প্রকল্পের হোটেল বানানো হয়েছে।

পথ সাথী প্রকল্পের প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী

  1. হোটেল ভাড়া নেওয়ার আগে আপনার প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা করতে হবে।
  2. হোটেলের মধ্যে কোনরকম নেশা জাতীয় দ্রব্য নিয়ে যাওয়া যাবে না।
  3. হোটেলগুলো থেকে রাত 10 টার পরে বাইরে যাওয়ার নিষিদ্ধ এবং রাত 11 টার পর খাবার পাওয়া যাবে না।
  4. নিজের সমস্ত জিনিসপত্র নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হবে।
  5. বিবাহিত ব্যাক্তিকে বিবাহের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
  6. খাওয়া দাওয়া এবং অন্যান্য খরচের আলাদা আলাদা বিল হবে।
  7. পথ সাথী প্রকল্পে হোটেল ভাড়া তিন দিনের বেশি দেওয়া যাবে না, যদি তার বেশি থাকতে হয় তাহলে পুনরায় হোটেল বুক করতে হবে।
  8. সকাল সাড়ে সাত টার সময় বুক করা রুম সাফাই হবে।
  9. উপযুক্ত হোটেলে পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।
  10. পথসাথী প্রকল্পের হোটেলে যদি কোন রকম অসুবিধা হয়, তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ স্বনির্ভর যোগ্য যাদের দায়িত্ব দেওয়া আছে তাদের জানাবেন।

পথ সাথী প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আধার কার্ড
  • ভোটার কার্ড
  • বিবাহিত হলে বিবাহের প্রমাণ

আবেদন পদ্ধতি

পথ সাথী প্রকল্পে সাধারণত অনলাইন থেকে হোটেল বুক করতে হবে। এছাড়া আপনি উপযুক্ত হোটেলে গিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে হোটেল ভাড়া করতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের www.wbhousing.gov.in এই ওয়েবসাইট গিয়ে আপনি যে জেলাতে আছেন,  জেলা ঠিক করতে হবে এবং কোন পথসাথী প্রকল্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি আছেন দেখে নিবেন। তারপর মোবাইল নাম্বার এবং ঘর নাম্বার দেওয়া থাকবে। আপনি ওখান থেকে যোগাযোগ করে আবেদন করবেন।