রূপশ্রী প্রকল্প কী? কিভাবে আবেদন করতে হয়! (Rupashree Prakalpa Details in Bengali)

আমরা আজকের এই প্রতিবেদন থেকে রাজ্য সরকারের সামাজিক উন্নয়নমূলক রূপশ্রী প্রকল্প সম্বন্ধে জানবো। রুপশ্রী প্রকল্প সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে এবং এর সুবিধা পেতে নিচের দেওয়া তথ্য গুলি একবার পড়ে নিন। আশা করছি এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলি জানতে পারবেন।

এই প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ রাজ্য বাজেট অধিবেশনে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন। সরকার রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থিক অনুদানমূলক প্রকল্প বলে মনে করছেন।

Rupashree Prakalpa- Details

Rupashree Prakalpa Details in Bengali

রূপশ্রী প্রকল্প কি?

রূপশ্রী প্রকল্প হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক ও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারে ১৮ বছরের উর্ধ্বে প্রত্যেক মেয়েকে বিবাহের জন্য আর্থিক সাহায্য করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা।

এই প্রকল্পের অধীনস্ত পরিবার কে সরকার বিবাহের খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করবে।

রূপশ্রী প্রকল্প এক নজরে

প্রকল্পের নামরূপশ্রী প্রকল্প
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
সাল২০১৮-২০১৯
উদ্বোধনমমতা ব্যানার্জি
দপ্তরঅর্থমন্ত্রক
সুবিধা২৫০০০ টাকা
সুবিধাভোগী১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নতুন বিবাহিত মেয়েরা
E-mail[email protected]
Websitehttps://wbrupashree.gov.in/
হেল্পলাইন033-23373846

রূপশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য

বাংলার দরিদ্র এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি তাদের প্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের সময় ঋণ নিয়ে নিতে না হয়, সেই জন্যে সরকার পরিবার গুলো কে সাহার্য্য করবে। এছাড়া বাল্যবিবাহ দূর করে নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা হলো রূপশ্রী প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা

  1. বাংলা দরিদ্র পরিবার এবং আর্থিক পিছিয়ে পড়া পরিবারকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা সাহায্য।
  2. মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বাল্যবিবাহ দূর করা।
  3. নারীদের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো।
  4. বাংলা জনসাধারণকে সামাজিক ও পরিকাঠামভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 রূপশ্রী প্রকল্পের যোগ্যতা

  1. আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  2. আবেদনকারী পাত্রীর বয়স ১৮ এবং পাত্রের বয়স ২১ হতে হবে।
  3. আবেদন পত্রটি জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে।
  4. আবেদনকারীর প্রথম বিবাহ হতে হবে।
  5. আবেদনকারীর পারিবারিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম হতে হবে।

রুপশ্রী প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আবেদনকারীর বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে জন্ম সার্টিফিকেট ,আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড দিতে হবে।
  • ব্লক, পঞ্চায়েত ও পৌরসভার স্তরের একটি অবিবাহিত সার্টিফিকেট।
  • বাসিন্দা সার্টিফিকেট।
  • পঞ্চায়েত, পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইনকাম সার্টিফিকেট।
  • পাত্রের ঠিকানা, নাম, বয়সের প্রমান পত্র লাগবে (আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট)
  • পাত্র-পাত্রীর জয়েন্ট রঙিন ফটো।
  • আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীর বিবাহের প্রমাণপত্র হিসাবে বিয়ের কার্ড, ম্যারেজ রেজিঃ নম্বর দিতে হবে।

রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি

অনলাইন থেকে রূপশ্রী প্রকল্পের এক কপি ফর্ম বার করে ফর্মটি পূরণ করতে হবে, তারপর উপযুক্ত সমস্ত কাগজপত্র গুলো ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রাম এলাকার BDO অফিসে জমা করবে।

আর মিউনিসিপালিটি এলাকায় বসবাস করলে রূপশ্রী ফর্ম টি পৌরসভা বা দুয়ারে সরকার প্রকল্প অফিসে জমা করতে পারেন।

সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো স্থানীয় পৌরসভা কিংবা বিডিও অফিসে জমা করার ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রূপশ্রী প্রকল্পের  আর্থিক সুবিধা আবেদনকারী পাবে।

সবশেষে,

আশা করছি আজকের এই রূপশ্রী প্রকল্প নিয়ে লেখা আর্টিকেল থেকে আপনি উক্ত প্রকল্পের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন। আমরা এই ওয়েবসাইটে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, স্টুডেন্ট স্কলারশিপ সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকি।

আপনি যদি উক্ত বিষয় গুলি জানতে চান বা আপডেট থাকতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করতে একদম ভুলবেন না।