শিশুসাথী প্রকল্প: ধনী-গরীব সবাই পাবে সুবিধা | Sishu Sathi Prakalpa in Bengali

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্য রাজ্যের থেকে প্রকল্প চালুতে অনেকটাই এগিয়ে আছে। ২০১১ সালের পর রাজ্যে শিশু, ছাত্রছাত্রী, মহিলা, বৃদ্ধ সকলের জন্যই বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। আজকের এই লেখাতে শিশু সাথী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। শিশু সাথী প্রকল্পে কি সুবিধা পাওয়া যাবে, কারা কারা সুবিধা পাবে, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কি করতে হবে সব কিছু জানতে হলে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সংবেদনশীল। আর এই সংবেদনশীলতার প্রমান হল ‘শিশু সাথী প্রকল্প’। এই প্রকল্পের নামও তিনি নিজেই দিয়েছেন। আমাদের রাজ্যে বিগত কয়েক বছরের শিশুমৃত্যুর হার এই কারণে অনেকটাই কমেছে। 

Sishu Sathi Prakalpa in Bengali

Sishu Sathi Prakalpa in Bengali

শিশু সাথী প্রকল্প কি?

জন্মের পর অনেক শিশুর হার্টের রোগ বা সমস্যা হয়। যেমন- হার্টে ফুটো থাকে, হার্টে ঠিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে না, হার্টের কোনো ভাল্ভ ঠিকমতো তৈরি হতে পারে না। এই সমস্যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে Congenital cardiac Defect (কনজেনিটাল কার্ডিয়াক ডিফেক্ট)। কোনো শিশুর হার্টের এই সমস্যা থাকলে রাজ্য সরকার তার হার্টের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেবে। আর এটাই ‘শিশু সাথী’ প্রকল্প। 

শিশু সাথী প্রকল্প একনজরে

প্রকল্পের নাম শিশু সাথী প্রকল্প
শুরুর সাল আগস্ট, ২০১৩ 
দপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর 
উদ্যোক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 
সুবিধাভোগী ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু
সুবিধা বিনা খরচে হার্টের চিকিৎসা 
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ 

শিশু সাথী প্রকল্পের উদ্দেশ্য 

পশ্চিমবঙ্গে শিশু সাথী প্রকল্প চালু করার পিছনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল-

  • রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার কমানো। 
  • আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বিনা খরচে হার্টের চিকিৎসা করানো।
  • শিশুর হার্টের যেকোনো ধরনের জটিল রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়ে বাবা-মা যেন তার শিশুকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন তার ব্যাবস্থা করা। 
  • হার্টের রোগী (শিশু) কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।

কারা শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে?

যে সমস্ত শিশুর বয়স ১৮ বছরের কম এবং যাদের হার্টের কোনো রোগ রয়েছে তারা সকলেই শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে। ঐ শিশুকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। 

কারা শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে না?

  • যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি তারা শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। 
  • যারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নয় তারাও শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। 

শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা

শিশু সাথী প্রকল্পের প্রধান সুবিধা হল- কোনো শিশুর হার্টের জটিল সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। আর এই চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে ঐ শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখা হবে না। অর্থাৎ রাজ্যের ধনী-গরীব সমস্ত শ্রেনির মানুষেরাই এই শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। 

শিশু সাথী প্রকল্পের জন্য  আবেদন 

পশ্চিমবঙ্গের দুটি সরকারি এবং ছয়টি বেসরকারি হাসপাতালে শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল SSKM এবং কোলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাওয়া যাবে এর সুবিধা। তবে সরাসরি হাসপাতালে গেলে শিশু সাথী প্রকল্পের কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। 

শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) অফিস এবং ব্লকের BMOH অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এই অফিস থেকে কিছু কাগজ দেওয়া হবে, যেগুলো নির্দিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখালে চিকিৎসা শুরু হবে।