সবুজ শ্রী প্রকল্প কি? সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি | What is Sobujshree Prakalpa in Bengali

” আমরা প্রকৃতির মাঝে গেলে ভালো হয়ে উঠি সুস্থ হয়ে উঠে এবং আমাদের জ্ঞানকে সুশৃংখল করে তুলি ”  — জন বুড়োস

পরিবেশ হলো মানুষের জীবনের এক অন্তরঙ্গ উপাদান। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমান পরিবেশের  সবুজায়নের  সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। আর সেই সবুজায়নের লক্ষ্যেই সবুজবাংলা গড়ে তোলার পেছনে এক অন্যতম ভূমিকা পালন করে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার দ্বারা পরিচালিত সবুজ শ্রী প্রকল্প।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর এই সবুজ শ্রী প্রকল্প চালু হয়েছিল। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের সাথে মানসিক বন্ধন গড়ে তোলার জন্য শুরু করা হয় এই সবুজ শ্রী প্রকল্প। সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতিবছর রাজ্যে ১৫ লক্ষ্যের উপরে সন্তানের জন্ম হয়।

তাই প্রত্যেক পরিবারকে যদি একটি করে চারাগাছ দেওয়া হয় তাহলে ১৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করা সম্ভব হবে। এই উদ্দেশ্যেই ২০১৬ সালে এই সবুজ শ্রী প্রকল্পের সূচনা হয়।

Sobujshree Prakalpa Details

Sobujshree Prakalpa in Bengali

সবুজশ্রী প্রকল্পে রাজ্য সরকার প্রতিটি নবজাতক শিশুর পরিবারকে একটি করে সবুজ চারাগাছ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চারাগাছটির নামকরণ হবে নবজাতক শিশুরটির নামে। ছোট্ট শিশুটির সঙ্গেই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে চারাগাছটি এবং শিশু বড় হয়ে তার প্রয়োজনে গাছটিকে ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি সে চাইলে আর্থিক কারণেও ব্যবহার করতে পারবে।

সবুজ শ্রী হল একটি বহুমুখী পরিকল্পনা। এই প্রকল্প বন পঞ্চায়েত পল্লী উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের একটি সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা। আসুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের সুবিধা সহ আরও বিস্তারিত তথ্য।

সবুজ শ্রী প্রকল্প একনজরে

প্রকল্পের নামসবুজ শ্রী প্রকল্প
কে চালু করেন?পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে?নবজাতক শিশুর পরিবার
প্রকল্পের সুবিধা কি?বিনামূল্যে চারাগাছ প্রদান
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.westbengalforest.gov.in/sabujsri.php

সবুজ শ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য

  • বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সবুজ বাংলা গড়ে তোলা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
  • শিশু সচেতনতা এবং পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয় এই সবুজ শ্রী প্রকল্প।
  • সবুজায়ন এর পাশাপাশি শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
  • প্রতিবছর ১৫ লক্ষাধিক চারা গাছ রোপনের মাধ্যমে রাজ্যের গ্রীন কভার বাড়ানো।
  • শিশুটি বড় হয়ে সরকার থেকে প্রাপ্ত গাছটি বিক্রি করে তার প্রয়োজনীয় আর্থিক অভাব মেটাতে পারবে। তাই ভবিষ্যতে আর্থিক সুরক্ষাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

সবুজ শ্রী প্রকল্পের সুবিধা

  • এই প্রকল্পে প্রত্যেক নবজাতক শিশু জন্মানোর পর তার পরিবারকে বনদপ্তর এর তরফ থেকে বিনামূল্যে একটি চারাগাছ দেওয়া হবে।
  • শিশু বড় হওয়ার পর তার নিজের প্রয়োজনে গাছটি ব্যবহার করতে পারে।
  • এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এর দ্বারা পরিবেশ সচেতনতার বৃদ্ধি ঘটবে।
  • এর মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় 15 লক্ষের অধিক বৃক্ষরোপণ সম্ভব হবে।
  • এছাড়া আর্থিক প্রয়োজনে সেই গাছটি বিক্রি করে আর্থিক অভাব দূর করা যেতে পারে।

সবুজ শ্রী প্রকল্পের জন্য যোগ্যতা

এই সবুজ শ্রী প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। রাজ্যের প্রতিটি নবজাতক শিশুরা যারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করবে তারা প্রত্যেকে এই প্রকল্পের সুবিধা লাভ করতে পারবে।

সবুজ শ্রী প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি

সবুজ শ্রী প্রকল্পের জন্য শিশু পরিবার কে আলাদা করে কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নবজাতক শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় বনদপ্তর থেকে তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হাতে চারাগাছটি তুলে দেওয়া হয়।

সবুজ শ্রী প্রকল্পের অঞ্চল

সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ক্ষেত্র। গ্রামীণ এবং শহর উভয় অঞ্চলের মানুষেরা এই প্রকল্পের  সুযোগ সুবিধা পাবেন।

সবুজ শ্রী প্রকল্পের হস্তক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশুকে মূল্যবান চারা উপহার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এটি অনুমান করা হয় যে প্রতি বছর রাজ্যে 15 লক্ষ শিশু জন্ম হয়। আর যদি প্রতিটি শিশুর পরিবার কে একটি করে চারাগাছ দেওয়া হয় তাহলে রাজ্যে ১৫ লক্ষ গাছ রোপন সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত যে মেহগনি, সেগুন, গামার, শিশু, রেড স্যান্ডার, রোজ উডের মতো ভূখণ্ডের উপযোগী মূল্যবান প্রজাতির চারাগুলি জন্মের সময় সন্তানের বাবা-মাকে উপহার দেওয়া হবে। চারা দেওয়ার পাশাপাশি সারের একটি প্যাকেট, বৃক্ষরোপণের পদ্ধতির নোট সহ লিফলেট সরবরাহ করা হবে।

নিবন্ধের পয়েন্ট পৌরসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত, হাসপাতাল ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের সাথে রেজিস্ট্রেশন করা প্রতিটি শিশুর জন্মের সাথে শিশুর পিতামাতাকে শংসাপত্রের সাথে তার পিতামাতার ঠিকানা, যোগাযোগের বিবরণ নিয়ে তাদেরকে একটি চারাগাছ উপহার দেওয়া হবে।

প্যাকেজিং প্রতিটি চারা কাস্টমাইজড পাট ব্যাগে বিতরণ করা হবে তার সাথে সারের একটি প্যাকেট এবং একটি লিফলেট রোপণের পদ্ধতি এবং কী কী যত্ন নেওয়া হবে সে সম্পর্কে বিশদ সরবরাহ করবে। প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত ব্যাগ ডিজাইন করা হবে।

বিতরণ ব্যবস্থা- নিবন্ধকরণ কর্তৃপক্ষ (গ্রাম পঞ্চায়েত / পৌরসভা) নিকটতম বন অফিসকে চারাগাছ প্রদানের ব্যাপার অবহিত করবে। অরণ্য বন্ধু / আশা কর্মীর সহায়তায় বন অফিস বিজ্ঞপ্তিত কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত / পৌরসভাকে চারা সরবরাহ করে। প্রকৃত হস্তান্তরটি প্রতি মাসের ১৪ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিত অথরিটি কর্তৃক সম্পন্ন হবে।