দুর্গাপূজার পর থেকেই শুরু হচ্ছে ভোটার কার্ডের সংশোধন, কত তারিখ থেকে শুরু- জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

ভারত তথা রাজ্যে বসবাসের নাগরিকত্ব প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড এক অন্যতম Document। ভারত স্বাধীন হওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ভারতবাসী কে ভোটার কার্ড দেওয়া হয়। ভারতে যাদের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর তাদের ভারত সরকার নাগরিকত্ব হিসেবে ভোটার কার্ড দিয়ে থাকে। এটা প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতবাসীর অধিকারও বটে।

সরকারের যেকোনো প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে ভোটার কার্ড জরুরী একটি ডকুমেন্ট। ভারতের শ্রমজীবী, চাকরিজীবি, ধনী-গরীব সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই ভোটার কার্ড থাকে। তবে ভোটার কার্ডে নাম, পিতার নাম, ঠিকানা সহ একাধিক তথ্যের ভুল থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে বসবাসের ঠিকানা এবং বিয়ের পর স্বামীর নাম এবং ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়।

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট। তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার সংশোধনের কথা জানিয়ে দিলেন। এই পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যবাসিকে নতুন ভোটার কার্ডে নাম তোলা, ভোটার কার্ডে নামের ভুল সংশোধন,ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ইত্যাদি কাজ শুরু করার জন্যে আহ্বান করেছেন। আর এই কাজ আগামী দুর্গাপূজার পর শুরু হবে।

রাজ্যে কবে থেকে শুরু হচ্ছে ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ

গত ৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্দোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের আমলা এবং তৃনমূলের বুথ এবং ব্লক স্তরের নেতা কর্মীরা। এই মঞ্চে ভাষণ দেওয়া কালীন একাধিক বার পঞ্চায়েত ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, আগামী 11 নভেম্বর থেকে 5 জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যে ভোটার কার্ডের কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে রাজ্যবাসীরা যাদের ১৮ বছর পূরণ হয়েছে তারা নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যাদের ভোটার কার্ডে ভুল রয়েছে তারা তার সংশোধন করতে পারবেন।

আপনাকে জানিয়ে দিই, সাধারণত বছরে 4 বার (1 জানুয়ারি, 1 এপ্রিল, 1 জুলাই এবং 1 অক্টোবর) নতুন ভোটার লিস্ট  বার হয়। পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছে এই বছরে 09.11.2022 তারিখে নতুন ভোটার লিস্ট প্রকাশ হবে। আর এবারে দুর্গাপুজোর পর ভোটার কার্ডে নাম সংশোধন, নতুন নাম নথিভুক্ত ও ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হবে। 

ভোটার কার্ড সংশোধনের  জন্য দরকারি ফর্ম

আমরা যখন আমাদের ভোটার কার্ড সংশোধন করতে যাবো তখন ভোটার কার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদা নম্বরের ফর্ম তুলে ফিল আপ করে জমা করতে হবে। অনেকেই কোন তথ্য সংশোধনের জন্য কত নম্বরের ফর্ম লাগবে তা জানে না। তাই নিচে ভোটার কার্ড সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফর্মের বিবরণ দেওয়া হলো-

  • নতুন ভোটার কার্ড করার জন্যে ৬ এ ফর্ম পূরণ করবেন।
  • ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড নাম্বার যুক্ত করার জন্যে ৬ বি ফর্ম পূরণ করে জমা করবেন।
  • ভোটার লিস্টে থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যে ৭ ফর্ম পূরণ করে জমা করবেন।
  • ভোটার কার্ডে নাম সংশোধন করার জন্যে ৮ এ ফর্মে আবেদন করবেন।

তাছাড়া nvsp.in ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে এর মাধ্যমে আপনার সমস্ত অভিযোগ এবং ডিজিটাল ভোটার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার বুথের ভোটার কার্ডের সংশোধন সংক্রান্ত কাজের জন্য যে দায়িত্বে আছে তার কাছে হার্ড কপি জমা করলে ৭ দিনের মধ্যে আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

👉 সরকারি প্রকল্প, সরকারি সুবিধার নতুন নতুন তথ্য মিস না করতে চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে Join হয়ে থাকুন

🔥 এগুলো জেনে রাখুন 👇👇

👉 স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

👉 আধার কার্ড নিয়ে সতর্কতামূলক ঘোষণা

👉 কর্মসাথী প্রকল্প- ২ লক্ষ টাকার সুবিধা